Aopurbo Education family is an E-Education Online service.

Health tips লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Health tips লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯

হাইপ্রেশার রোগীর রক্ত চাপ বেড়ে গেলে তখন করণীয় কি কি?

অক্টোবর ১০, ২০১৯ 0
হাই প্রেশার একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা। এর কারনে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের হঠাৎ করে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে শারীরিক নানান ঝুঁকি বেড়ে যায়। রক্তচাপ হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে কি করতে হবে সে বিষয়ে আসুন জেনে নিই।
হাই প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপ একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা। এর কারণে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে অধিক বয়সী ব্যক্তিদের হঠাৎ করে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে শারীরিক নানান ঝুঁকি বেড়ে যায়। রক্তচাপ হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে ও রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে করণীয় বিষয়ে আসুন বিস্তারিত জেনে নিই।
হাইপ্রেশার  রোগীর রক্ত চাপ বেড়ে গেলে তখন করণীয় কি কি


হাই প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপ কি?
যদি কারও উপরের রক্তচাপ মাত্রা বা সিস্টোলিক রিডিং ১৪০ বা তার বেশি এবং নিচের রক্তচাপ মাত্রা বা ডায়াস্টোলিক রিডিং ৯০ বা তার বেশি পাওয়া যায়, তাহলে উক্ত ব্যক্তির উচ্চ রক্তচাপ আছে বলে ধরে নেয়া হয়।

রক্তচাপ হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে কি করতে হবে?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোন কারণ থাকে না। কিছু ক্ষেত্রে কিডনির অসুখ , অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির অসুখ, যেমন থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ ইত্যাদির কারণে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। সাধারণত যাঁরা শারীরিক পরিশ্রম কম করেন, স্থূলকায় কিংবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এমন ব্যক্তিদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বেশি দেখা যায়। কিন্তু তারপরও হঠাৎ করেই অনেক সুস্থ ব্যক্তি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় পড়তে পারে।
কোন সুস্থ ব্যক্তির রক্তচাপ হঠাৎ করে বেড়ে গেলে উক্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষনিকভাবে অবশ্যই বিশ্রাম নিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে মাথায় পানি দিয়ে বা বরফ দিলে আরাম পাওয়া যায়। প্রেশার কমানোর জন্য অনেকে তেতুলের শরবত খেয়ে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ইসব পন্থা কাজে দেয়না। তাই এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং তার দেয়া ওষুধ খেতে হবে। আর যাদের পূর্ব থেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাদেরও যদি হঠাৎ করে রক্ত চাপ বেড়ে যায় তাহলে অস্থির না হয়ে বিশ্রাম গ্রহন করতে হবে। মাথায় পানি বা বরফ ব্যবহারে সাময়িক উপশম পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রক্তচাপ কমানোর জন্য নিজে থেকে কোনো ওষুধ গ্রহণ না করাই ভালো।
হাই প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমানোর উপায়সমুহ
বংশগত উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধের তেমন ব্যবস্থা আবিষ্কৃত না হলেও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই যেসব বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেগুলোর ব্যাপারে বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত। নিম্নে এইরকম কতিপয় নিয়মাবলী আলোচনা করা হলো।
১। শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো
অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। এজন্য খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। একবার কাংখিত ওজনে পৌঁছালে সীমিত আহার এবং ব্যায়াম অব্যাহত রাখতে হবে। ওষুধ খেয়ে ওজন কমানো বিপজ্জনক। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমানোর ওষুধ না খাওয়াই ভালো।
২। খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে সতর্কতা
কম কোলেস্টেরল ও চর্বি যুক্ত খাবার যেমন, খাসি বা গরুর গোস্ত, কলিজা, মগজ, গিলা, ডিম কম খেতে হবে পারলে বাদ দিয়ে দিতে হবে। সুষম খাবার নিশ্চিত করতে কম তেল দিয়ে রান্না করা খাবার, ননী মুক্ত দুধ, উদ্ভিজ্জ তেল যেমন সয়াবিন, ভুট্টার অথবা সূর্যমুখীর তেল খাওয়া যেতে পারে। রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি রক্তচাপ ঠিক রাখতেও রসু্নের ভুমিকা রয়েছে। তাই নিয়মিত রসুন খাওয়া যেতে পারে। অধিক আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উত্তম । আটার রুটি ও ভাত পরিমাণ মতো খেতে হবে।
৩। খাবারে লবণ নিয়ন্ত্রণ করা
অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। লবণ আমাদের শরীরের বাড়তি পানি ধরে রাখে ফলে রক্তের ভলিউম বা পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। বাড়তি লবণ শরীরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধমনীর সংকোচনও বাড়িয়ে দেয় । ফলে শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যায় । তাই তরকারিতে প্রয়োজনীয় লবণের বাইরে অতিরিক্ত লবণ না খাওয়াই ভালো।
৪। নিয়মিত ব্যায়াম করা
নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য অর্জন হয় যা উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসায় সহায়ক। ব্যায়াম ওজন কমাতে সাহায্য করে, শরীর ও মনকে সতেজ রাখে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তাই সকাল-সন্ধ্যায় হাঁটাচলা করা, সম্ভব হলে একটু দৌড়ানো, হালকা ব্যায়াম ইত্যাদি করতে হবে। অফিস কিংবা বাসায় লিফটে না চড়ে সিঁড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫। ধূমপান  তামাক পাতা বর্জনঃ
ধূমপানের কারণে হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার সহ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ দেখা দেয়। তাই নিজে ধূমপান থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ধূমপায়ীদের সংস্পর্শ থেকেও দূরে থাকা উচিত। তামাক পাতার ব্যবহারের সঙ্গেও হৃদরোগ এবং ষ্ট্রোকের গভীর সম্পর্ক আছে । তাই তামাক পাতা, জর্দ্দা, গুল লাগানো ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

৬। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা :
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে তাদের অবশ্যই সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৭। শারীরিক  মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
যেকোন শারীরিক ও মানসিক চাপ পরিহার করার চেষ্টা করতে হবে। এজন্য নিয়মিত বিশ্রাম, হাসিখুশি থাকা,সময় মতো ঘুমানো, শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দেওয়া উচিত। হবে।মানসিক শান্তি পাওয়া এবং মন প্রফুল্ল রাখতে নিজের শখের কাজ করা, নিজ নিজ ধর্মের চর্চা করা যেতে পারে ।

৮। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা
কোন সমস্যা না থাকলেও নিয়ম করে মাঝে মধ্যে যেমন বছরে এক-দুই বার অবশ্যই রক্তচাপ মাপতে হবে। এর ফলে আপনি উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত কিনা তা প্রথম থেকেই বোঝা যাবে। নিয়মিত মাথা ব্যাথা, চোখ ব্যাথা, শারীরিক দূর্বলতা ইত্যাদি সমস্যায় অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় নিম্ন রক্তচাপের কারনেও শরীরে দুর্বল ভাব হতে পারে। এমন হলে যথাশীঘ্র ডাক্তারের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী জীবন যাপন করা উচিত। তাই উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ ধরা পড়া মাত্রই তা নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং জটিল রোগ বা প্রতিক্রিয়া হতেও রক্ষা পাওয়া যায়। 

আপনার একটু যত্ন আর কিছু ভালো অভ্যাস এই নীরব ঘাতক হৃদরোগের কবল থেকে আপনাকে অনেক দূরে রাখতে পারে। তাই আজ থেকেই সচেতন হয়ে উঠুন এবং উচ্চ রক্তচাপের বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন।
অহরহ অনেকের মুখে শুনে থাকবেন হঠাৎ করেই নাকি প্রেসার ওঠানামা করছে। জেনে রাখা ভালো এটি মোটেও কোনো ভালো লক্ষণ নয়। একজন মানুষ যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন তাহলে অবশ্যই তার প্রেসার, পালস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হবে।
যেসব লক্ষণে বুঝবেন প্রেসার ওঠানামা করছে
সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।
আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে। এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড় বা পালসের গতি বেড়ে যায়।
হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কী করবেন?
শাকসবজি, ফল ও শস্যদানা
হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কিছু খাবার আপনি খেতে পারেন। বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদি।এসব খাবারে বেশ উপকার পাবেন।
কম চর্বিযুক্ত খাবার
হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।
টুকরো করে আধাকাপ ফল
যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ফল খেতে পারেন।টুকরো টুকরো করে কাটা আধাকাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধাকাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।
শাকসবজি ৪ থেকে ৫ সার্ভিং
শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধাকাপ রান্না করা শাক।
দানা শস্য ৭ থেকে ৮ সার্ভিং
দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।
বিচি জাতীয় খাবার
বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।
হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?
ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়। উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।
চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০-৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০-৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।
আসুন জেনে নেই হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন।
লবণ-পানি
লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।
কফি-হট চকলেট
হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারি নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।
বিটের রস
বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।
বাদাম
লো প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা প্রেসার বাড়াতে সহায়তা করে।
পুদিনা
ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।
যষ্টিমধু
আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।
স্যালাইন
শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।

বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯

জাম্বুরার ঔষধি গুনাগুণ ও নানাবিধ উপকারিতা

অক্টোবর ০৯, ২০১৯ 0
জাম্বুরার ঔষধি গুনাগুণ ও নানাবিধ উপকারিতা

ভিটামিন 'সি'-সমৃদ্ধ দেশি ফল জাম্বুরা। বিভিন্ন জাতের হয়ে থাকে। কোনো জাতের ভেতর লাল টকটকে, কোনোটির ভেতর আবার সাদা। কোনোটির স্বাদ মিষ্টি আবার কোনোটির স্বাদ। এর খাদ্য উপাদান যাদের গ্যাসিডিটি বা গ্যাস আছে তাদের জন্য বেশ উপকারী।
পুষ্টিগুণ : - প্রতি ১০০ গ্রাম জাম্বুরার মধ্যে ক্যালোরি আছে ৩৭ কিলো ক্যালোরি, শর্করা ৯.২ গ্রাম, মুক্ত চিনি থাকে ৭ গ্রাম, সামান্য খাদ্যআঁশ, প্রোটিন ও ফ্যাট বর্তমান। বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ ১২০ মা.গ্রা., ভিটামিন ৬০ গ্রাম, ভিটামিন 'বি'ও থাকে। ক্যালরি কম থাকায় ডায়াবেটিস ও স্থুলকায়দের জন্য খুবই উপকারী ফল।
   

 চলুন জেনে নিই উপকারিতা...
১) এসিডিটি বা গ্যাস প্রতিহত করে।
২) বায়োফ্লভনয়েড বেশি থাকায় ব্রেস্ট ক্যান্সারের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
৩) ভিটামিন 'সি' বেশি থাকায় রক্তনালির সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
৪) ডায়াবেটিস, জ্বর, নিদ্রাহীনতা, মুখের ভেতরে ঘা, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে, সেই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা করে।
৫) ওজন কমানোয়ও বিশেষ ভূমিকা রাখে।
৬) রক্ত পরিষ্কারের ক্ষমতা থাকায় দেহে কোনো ধরনের বিষাক্ত উপাদান প্রবেশ করলে ধ্বংস করতে পারে।
৭) প্রতিদিন এক গ্লাস করে বাতাবি লেবু জুস করে খেলে ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।


জাম্বুরা বা বাতাবি লেবু একটি উপকারি ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ফল। এটি ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভালো উপকার পাওয়া যায়। জাম্বুরা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। জাম্বুরার বৈজ্ঞানিক নাম citrus maxima আর ইংরেজি নাম Pomelo। বাংলাদেশে জাম্বুরা বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন বড় লেবু, বাদামি লেবু, ছোলম ইত্যাদি। যত প্রকার লেবু আছে তার মধ্যে জাম্বুরা সর্বাপেক্ষা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। টক-মিষ্টি রসাল ফল জাম্বুরা প্রচুর পুষ্টিগুণে ভরপুর।
জাম্বুরা পটাসিয়ামের ভালো উৎস। এছাড়া ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’ ছাড়াও অন্যান্য ভিটামিনের মধ্যে পাইরিডক্সিন, ফলিক এসিড ও থায়ামিন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রয়েছে এতে। সামান্য পরিমাণে ফসফরাস, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও কপার রয়েছে। নানা রকম ফাইটোনিউট্রিয়েন্টসে সমৃদ্ধ এই ফল এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। এগুলোর মধ্যে নারিঞ্জেনিন, ফ্ল্যাভোনয়েড ও নারিঞ্জিন উল্লেখযোগ্য। জাম্বুরাতে আরো রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, লাইকোপেন, লিউটিন ও জ্যান্থিন। আসুন জেনে নিই জাম্বুরার গুনাগুণ-
রোগ প্রতিরোধ:
জাম্বুরাতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। এটি রক্তনালির সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ডায়াবেটিস, জ্বর, নিদ্রাহীনতা, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা করে জাম্বুরা। নিয়মিত জাম্বুরা খেলে কোষ্ঠকাঠিণ্য দূর হয় ও পেটের নানা রকম হজমজনিত সমস্যার প্রতিকার হয়।
হজম সমস্যায়:
বাতাবি লেবুতে রয়েছে প্রচুর আঁশ। এটি খাদ্যের সঠিক পরিপাকে সাহায্য করে কোষ্ঠকাঠিণ্য ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দূর করে। এর আঁশ পরিপাকতন্ত্রের ক্রিয়া সচল রাখে ও সঠিক মাত্রায় পরিপাক রস নিঃসৃত করে। ফলে খাদ্যের সর্বোচ্চ পরিপাক হয় এবং হজমের সমস্যা দূর করে।
ক্যানসার প্রতিরোধ:
বাতাবি লেবু আন্ত্রিক, অগ্ন্যাশয় ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এর লিমোনয়েড নামক উপকরণ ক্যানসারের জীবাণুকে ধ্বংস করে ও এর আঁশ মলাশয়ের ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
ওজন হ্রাস:
বাতাবি লেবুতে রয়েছে প্রচুর আঁশ। এটি দেহের অতিরিক্ত চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত জাম্বুরা গ্রহণে শরীরের ওজন কমে।
রক্তচলাচল বৃদ্ধি:
জাম্বুরাতে প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে। এটি আমাদের ধমনির আয়তন বৃদ্ধি করে রক্ত চলাচলের পথকে সুগম করে। ফলে দেহের বিভিন্ন প্রান্তে অক্সিজেন পৌঁছানো সহজ হয়, যা হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ কমায় এবং স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও অ্যাথেরো সক্লেরোসিসের আশঙ্কা হ্রাস করে।
মজবুত হাড়:
আমাদের দেহে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়ামের অভাব হলে অস্টিওপোরোসিসসহ হাড়ের নানাবিধ রোগ দেখা দেয়। জাম্বুরাতে এই খনিজ উপাদানসমূহ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।
বুড়িয়ে যাওয়া রোধ:
নিয়মিত জাম্বুরা বা বাতাবি লেবু খাওয়া হলে অকাল বার্ধক্যের চিহ্নসমূহ হতে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া জাম্বুরায় স্পারমেডিন নামক একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে। এটি বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মেহেদির পাতার বিশেষ গুণাগুণ

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ 0

মেহেদির পাতা:
 ছবি: মেহেদির পাতা
মেহেদির পাতা দেখতে সবুজ হলেও এর পাতা বাটলে লাল রং হয়। ইহা প্রকৃতির এক অনবদ্য দান। মেহেদী গাছে রয়েছে এন্টি ফাঙাল, এন্টি মাইক্রোবিয়াল, এন্টিব্যাকটেরিয়াল, এন্টিইনফ্লেমেটরী, কুলিং, হিলিং ও সিডেটিভসহ অনেক গুনাগুণ যামানব দেহ ও মনের বিভিন্ন রোগ প্রশমনকারী।

তবে দেখাযাক মেহেদীর যত ভেষজ গুণাগুণ 
জন্ডিসঃ আঙুলের মতো মোটা মেহেদি গাছের মূল অর্ধভাঙা আতপ চাল ধোয়া পানি দিয়ে ঘষে দুই চা চামচ পরিমাণ নিয়ে ৮-১০ চামচ ওই চাল ধোয়া পানি মিশিয়ে সকালে ও বিকেলে দুই বার খেতে হবে। এভাবে চার-পাঁচ দিন খেলে জন্ডিসে উপশম হয়। এ সময় ডাবের পানি বা আখের রস খাওয়া যাবে না।

শ্বেতপ্রদাহঃ ২৫ গ্রাম মেহেদিপাতা সিদ্ধ করে সেই পানিতে উত্তর বস্তি (ডুস দেয়া) দিলে সাদাস্রাব ও অভ্যন্তরে চুলকানি প্রশমিত হয়। স্থানভ্রষ্ট জরায়ুর ক্ষেত্রেও উপরোল্লিখিত পদ্ধতি প্রয়োগ করলে সুবিধা পাওয়া যায়।

শুক্রমেহ রোগঃ মেহেদী পাতার রস এক চা চামচ দিনে দুই বার পানি বা দুধের সাথে একটু চিনি মিশিয়ে খেলে এক সপ্তাহের মধ্যে উপকার পাওয়া যায়।

মাথা চুলের বিভিন্ন রোগেঃ চুল উঠে যাওয়া বা পাকায় একটি হরীতকী ও ১০-১২ গ্রাম মেহেদিপাতা একটু থেতো করে ২৫০ মিলি পানিতে সিদ্ধ করে ৬০-৭০ মিলি থাকতে নামিয়েছেঁকে ঠান্ডা হলে মাথায় লাগালে উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া খুশকি দূর করতেও এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক মেহেদীর ভিতরে একপ্রকারের প্রাকৃতিক এসিড রয়েছে যা এন্টি ফাঙাল, এন্টি মাইক্রোবিয়াল ও এন্টি ব্যাকটেরিয়াল যা চুলকে লম্বা, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান করে। এটি চুলপড়াও রোধ করে। প্রাকৃতিক মেহেদী পেস্ট মাথা ঠান্ডা রাখে ও মাথা ব্যাথা দূর করে। ২৫০ গ্রাম সরিষার তেল একটি পাত্রে সিদ্ধ করার সময় ৬০ গ্রামহেনা পাতা ক্রমান্বয়ে যোগ করা হয়; তারপর একটি কাপড় দিয়ে ছেঁকে বোতলে সংরক্ষণ করা হয়। এটি নিয়মিত মাখলে চুলের স্বাস্থ্যবান বৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরে। এটি মাথার টাকের চিকিৎসারও উপাদান।

স্কীন ওরাল ডিজিজঃ অত্যান্ত উপকারি ভেষজ হেনার পাতা ও ফুল হতে আহরিত তেল অনেক চর্ম-মলম তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চামড়ায় ক্ষত, পোড়া ও চামড়ারফ্যাকাসে হলুদ দাগ চিকিৎসায় অত্যান্ত কার্যকরী ঔষধ হিসাবে ব্যবহার হয়। স্কেবিস, চর্মের চুলকানি জাতীয় ও নখের ফাটার চিকিৎসায় হেনা পেস্টব্যবহার হয়। ত্বকের বিভিন্ন রোগ যেমন- একজিমা, খোসপাঁচড়া, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন, ঘা, কুষ্ঠু, শ্বেতী ইত্যাদি রোগে মেহেদিপাতার রসউপকারী। পাতার রস দিনে দুই বার আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। এ ছাড়া যাদের গায়ের বা মুখের চামড়া কুঁচকে ঢিলে হয়ে বা ঝুলে গেছে, তারা এইপাতার রস দিয়ে তৈরি তেল মাখলে অনেকটা স্বাভাবিক হবে। গরমকালে যাদের শরীওে ঘাম বেশি হয়ে দুর্গন্ধ হয় তারা বেনামূল মেহেদিপাতা সিদ্ধপানিতে গোসল করলে উপকার পাবেন। দেহ হতে পানি হ্রাস প্রতিরোধ করে; আবার ময়েশ্চার ধারণের ফলে কোন অঙ্গ স্ফিতীর রোধে এক প্রকারডিসল্ভিং ফ্যাক্টর গঠনে কাজে লাগে। হাত-পা জ্বালায় পাতার পেস্ট পুরু করে লাগিয়ে রাখলে উপকার পাওয়া যায়। কারণ মেহেদিতে আছেশীতলকারক উপাদান। গর্ভবতী মায়ের ৮ মাসের সময় তার নাভীসহ গোটা তলপেটে মেহেদীর ভরাট ডিজাইন করলে গর্ভজনিত কারণে চামড়ারফাঁটা ও দাগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

অন্যান্য রোগঃ মাথাব্যাথা, জ্বর ও ভিটামিন-বি এর ঘাটতি জনিত পায়ের পাতার জ্বালা পোড়ার ক্ষেত্রে দেহের তাপমাত্রা কমিয়ে স্বস্তি প্রদান করতে পারে। এর ফুলেরপেস্টের সাথে ভিনেগার মিশিয়ে কপালে প্রয়োগ করলে রৌদ্রজনিত কারণে মাথা ব্যাথার উপশম হয়। গলা ব্যাথা উপশমে হেনা পাতা দিয়ে গরম করাপানি দিয়ে কুলকুচা করা যায় বা আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা যায়। অস্থিও জোড়ায় প্রদাহ, ফোলা ও থেতলে যাওয়া অঙ্গে পাতার পেস্ট স্থানীয়ভাবেপ্রয়োগ করা যায়। মেহেদী পাতার রস ও সরিষার তেল মালিশ করলে ব্যাথা কমে। মেহেদী পাতার রস গরম করে দুই ফোঁটা করে চার-পাঁচ দিন কানেদিলে কান দিয়ে পুঁজ পড়া বন্ধ হবে। আবার অনেকে এই পাতার রস দিয়ে তৈরি তেলও ব্যবহার করে থাকেন। অল্প কয়েকটা পাতা থেঁতো করে, গরমপানিতে ফেলে রেখে কিছুক্ষণ পরে ছেঁকে সেই পানির ফোঁটা চোখে দিলে চোখ ওঠা রোগ ভালো হয়। বাকলের রস জন্ডিস, প্লীহা বড় হয়ে গেলে, কুষ্ঠএবং সহজে সারে না এমন চর্মরোগ নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। শরীরে হিমোগ্লোবিন সঠিক পরিমাণে আছে কি না জানার জন্য মেহেদিপাতাব্যবহার করা হয়। মেহেদিপাতা বাটা হাতের তালুতে লাগালে রঙটা লালচে আভা দিলে ভালো, না হলে হিমোগ্লোবিন কম আছে বলে ধারণা করা হয়।

ভেষজ পানির গুণাগুণ

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ 0

জেনিফার বিনতে হক

 
 ভেষজ পানির গুণাগুণ
প্রতিদিন আমাদের অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। কিন্তু এই পানির সঙ্গে কিছু উপাদান মেশালে তা হয়ে ওঠে পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক। তখন একে বলে ডিটক্স ওয়াটার বা ডিটক্স পানি। তাজা ফল, সবজি ও ভেষজ উপাদান টুকরো করে কেটে স্বাভাবিক তাপমাত্রায়, হালকা গরম বা শীতল পানিতে নির্দিষ্ট সময় ভিজিয়ে রেখে এই মিশ্রণ তৈরি করা হয়।

•  ডিটক্স পানি সারা দিন শরীরকে সতেজ ও শীতল রাখতে সাহায্য করে।
•  শরীর থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সহায়ক।
•  শরীরের মেদ কোষগুলোর নিষ্কাশনে সাহায্য করে এটি। খাবার হজমে সাহায্য করে ও বিপাক বাড়ায়।
•  যকৃৎ ও ত্বকের জন্য ডিটক্স পানি উপকারী। প্রদাহ কমাতেও এটি সহায়ক।
•  এই পানিতে যে ফল মেশানো হয়, তা মিষ্টি বা চিনির প্রতি আগ্রহ কমায়, রুচি বাড়ায়।
•  ফল ও সবজির ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য গুণ থাকলেও এতে ক্যালরি বেশি থাকে না।
•  উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমাতেও উপকারে আসে ডিটক্স পানি।

উপকারী ও জনপ্রিয় কিছু ডিটক্স পানি
•  আদা ও লেবু: এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক ইঞ্চি পরিমাণ আদাকুচি ও আধখানা লেবুর রস মিশিয়ে খালি পেটে পান করুন।

•  লেবু ও পুদিনা পাতা: ১৫ থেকে ২০টি পুদিনা পাতা, পাতলা করে কাটা লেবুর ৫ বা ৬টি টুকরো বা আধখানা লেবুর রস ৫০০ মিলিলিটার পানিতে ভিজিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। সকালে খালি পেটে বা দিনে দুই থেকে তিনবার পান করতে হবে।

•  লেবু, শসা ও পুদিনা পাতা: ৮ কাপ পানিতে একটি আধখানা লেবুর রস ও ওই পরিমাণ লেবু কুচি করে কেটে মিশিয়ে দিতে হবে। তারপর আধখানা শসা কুচি করে ৭টি পুদিনা পাতাসহ ওই পানিতে দিয়ে ২–৩ ঘণ্টা রেখে পান করুন।

•  আপেল, দারুচিনি: ১ লিটার পানিতে একটি আপেল স্লাইস করে কেটে এক টেবিল চামচ দারুচিনি দিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে ঘুমানোর আগে পান করলে শরীরের চর্বি কমে ও বিপাকক্রিয়া ভালো হয়।

•  চিয়া সিড ও লেবু: আধ চা–চামচা চিয়া সিড এক কাপ পানিতে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে যে জেল তৈরি হবে, তাতে এক চা–চামচ লেবুর রস ও আরও পানি মিশিয়ে নেড়ে পান করুন। এতে তন্তু বা আঁশ থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

এ ছাড়া ডিটক্স পানি তৈরিতে স্ট্রবেরি, কমলা, সাইট্রাস ফলের খোসা, জাম্বুরা, বিট ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়।
লেখক: পুষ্টিবিশেষজ্ঞ

মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায়

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ 0
মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায়
নাফিসা আবেদীন

অলংকরণ: আরাফাত করিম
মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায়
অলংকরণ: আরাফাত করিমঅনেক মায়ের স্তনে বাচ্চার জন্য দুধের পরিমাণ কম থাকে অর্থাৎ বাচ্চা যত চেষ্টাই করুক না কেন বুকের দুধ তার মুখে কম যায়। দুধ না পেলে বাচ্চার ক্ষুধা মেটে না, চিৎকার ও কান্নাকাটি করে। বাচ্চা অপুষ্টিতে ভোগে। বুকে দুধ কম থাকলে হাত দিয়ে দুধ পাম্প করার চেষ্টা করতে হবে। এটাই সবচেয়ে ভালো উপায় বুকে দুধ আনতে চাইলে।

এ ছাড়া বাজারে বর্তমানে কিছু পাম্প করার মেশিনও পাওয়া যায় সেগুলোও কার্যকারী। প্রোটিন বা ক্যালরির পরিমাণ বাড়িয়ে দিলেই বুকে দুধ আসবে—এটা ভুল ধারণা। তবে অবশ্যই বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় শরীরের চাহিদার প্রতি খেয়াল রেখে মাকে সুষম খাবার খেতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি, শাকসবজি, ফলমূল, মাছ (সামুদ্রিক মাছ নয়) এবং উপকারী চর্বিযুক্ত খাবার খেতে হবে। এতে মায়ের স্তনে দুধের পরিমাণ বাড়বে।
প্রতিটি শিশুর চাহিদা আলাদা। কেউ কেউ অল্প করে বারবার খেতে চায় আবার কেউ কেউ অনেকক্ষণ ধরে খায়। শিশুকে প্রথমে একটি স্তনের দুধ খাইয়ে শেষ করে, তারপর আরেকটি স্তন তার মুখে দিতে হবে। শিশুকে সময় বেঁধে নয় বরং বারবার এবং যতবার শিশু চায়, ততবারই দুধ দিতে হবে। ধৈর্য ধরে খাওয়াতে হবে, খাওয়া শেষের আগেই সরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। কারণ, বাচ্চা দুধ টানলে মায়ের মস্তিষ্কের ভেতরের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে প্রোলাক্টিন হরমোন নিঃসৃত হয় যা বেশি বেশি দুধ তৈরির উদ্দীপনা জাগায়।

বাচ্চা যত বেশি দুধ টানবে তত বেশি হরমোন নির্গত হবে এবং তত বেশি দুধ উৎপাদিত হবে। তাই বুকের দুধ তৈরির একমাত্র উদ্দীপনা হলো শিশুর বুকের দুধ টানা। শিশু বুকের দুধ পাচ্ছে না বলে তাকে ফর্মুলা খাবার দেওয়া যাবে না। এতে মায়ের দুধ আরও কমে যাবে এবং শিশুর বুকের দুধ টানার অভ্যাস ও চলে যাবে। কোনো অবস্থায় শিশুর মুখে বোতল বা চুষনী দেওয়া উচিত নয়। এর ফলে শিশু তার মায়ের স্তনের বোঁটা মুখে নিতে চাইবে না। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়া উচিত নয়। এতে বুকের দুধ কমে যেতে পারে। তাই এ সময় অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

লেখক: আবাসিক চিকিৎসক, প্যাথলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার খাওয়ার পানি কতটা নিরাপদ

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ 0
আপনার খাওয়ার পানি কতটা নিরাপদ
 অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ 
 
 

আপনার খাওয়ার পানি কতটা নিরাপদআমাদের শরীরের শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগই পানি। শরীরে উৎপন্ন বিভিন্ন বর্জ্য নিষ্কাশনে ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পানি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ কারণে দিনে অন্তত আট–নয় গ্লাস কিংবা দুই–তিন লিটার পানি পান করা উচিত।

পান করার জন্য পানি হওয়া চাই বিশুদ্ধ বা নিরাপদ। আর্সেনিকমুক্ত নলকূপের পানি নিরাপদ। গভীর নলকূপের পানি অগভীর নলকূপের পানির চেয়ে বেশি নিরাপদ। বৃষ্টির পানিও নিরাপদ। তবে পুকুর, নদী-নালা, খাল-বিল ইত্যাদি জলাশয়ের পানি পান করা নিরাপদ নয়। বাড়িতে স্যানিটারি ল্যাট্রিন না থাকলে মল এ ধরনের জলাশয়ের সংস্পর্শে আসতে পারে। মলে থাকা অসংখ্য জীবাণু পানিকে দূষিত করে তোলে। কলকারখানার বর্জ্যও পানি দূষিত করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাপ্লাইয়ের পানিও সরাসরি পান করা নিরাপদ নয়। জীবাণুযুক্ত বা দূষিত পানি পান করলে নানা ধরনের অসুখ হতে পারে। এগুলোকে বলে পানিবাহিত রোগ। পানিবাহিত রোগের মধ্যে আছে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, জিয়ার্ডিয়া, টাইফয়েড, পলিওমায়েলাইটিস, লিভারের অসুখ বা জন্ডিস (হেপাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-ই), কৃমি ইত্যাদি।

পানিবাহিত রোগ যেন না হয়, সে জন্য নিরাপদ পানি পান করতে হবে। অনিরাপদ পানি সরাসরি পান না করে তা ফুটিয়ে, ফিল্টার করে, হ্যালোজেন ট্যাবলেট বা ক্লোটেক সলিউশন ব্যবহার করে নিরাপদ করে নিতে হবে। তবে পানি ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতিই হলো সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।

ফোটানোর জন্য সংগ্রহ করা পানিতে দৃশ্যমান ময়লা থাকলে তা আগে ছেঁকে নিতে হবে। তারপর তা চুলায় ফোটাতে হবে। পানি ফুটতে শুরু করার পর আরও ১০ থেকে ২০ মিনিট তা ফোটাতে হবে। এর ফলে পানিতে থাকা রোগের সব জীবাণু মরে যায়। ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করা পানি যেন অন্য পাত্র বা হাতের সংস্পর্শে দূষিত না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয়, যে পাত্রে পানি ফোটাবেন, ঠান্ডা করার জন্য সে পাত্রেই পানি রেখে দিন। পাত্রের মুখ পরিষ্কার ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন। পাত্রের ভেতর মগ বা গ্লাস বা অন্য কোনো কিছু দিয়ে পানি না তুলে ঢেলে নিন।
হ্যালোজেন ট্যাবলেট এবং ক্লোটেক সলিউশন ব্যবহার করেও পানি বিশুদ্ধ করা যায়। ১৫ মিলিগ্রামের দুটি হ্যালোজেন ট্যাবলেট অথবা ৩২ ফোঁটা ক্লোটেক সলিউশন ১০ লিটার (এক কলসি) পানিতে মিশিয়ে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পরে পান করুন। পানি বিশুদ্ধকরণের ফিল্টার ব্যবহার করলে প্রতি সপ্তাহেই ফিল্টারের ক্যান্ডেল ধুয়ে–মুছে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। খাবারের থালা, গ্লাস, ফলমূল, লেবু, শসা—এসব ধোয়ার জন্যও নিরাপদ পানি ব্যবহার করুন। বাইরে খেতে হলে নিরাপদ পানির ব্যাপারে নিশ্চিত হোন।

অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ 
বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ, কমিউনিটি বেজড্ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ।

হলুদের শত গুণাগুণ এবং একটি রেসিপি

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ 0
 হলুদের শত গুণাগুণ এবং একটি রেসিপি


হলুদের অনেক গুণ। নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ হলুদ খেলে আপনি সুস্থ থাকতে পারেন। ছবি: প্রথম আলোহলুদের অনেক গুণ। নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ হলুদ খেলে আপনি সুস্থ থাকতে পারেন। ছবি: অপূর্ব ব্লকপোস্ট

হলুদের শত গুণাগুণ এবং একটি রেসিপি
তুরীণ তার ক্লাসে সবচেয়ে প্রাণবন্ত মেয়ে। সব সময় চোখে-মুখে যেন হাসি লেগে আছে। ছিপছিপে গড়ন। গায়ের রঙে যেন অদ্ভুত সোনালি দ্যুতি ছড়ায়। ওর প্রতি সবাই মুগ্ধ। ক্লাসের বন্ধুরা একদিন সবাই মিলে ওর এই সুন্দর ত্বকের রহস্য জানতে চায়। তুরীণ হাসি মুখে জানায়, ও প্রতিদিন সকালে এক টুকরা কাঁচা হলুদ ১ চামচ আখের গুড় দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ২ গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করে। এটাই নাকি ওর অভ্যাস। বন্ধুরা তো ওর সৌন্দর্যের রহস্য জেনে অবাক। আসলে অবাক হওয়ার মতোই ব্যাপার বটে—হলুদের যে অনেক গুণ!

আপনাদের আজ ‘মসলার রানি’খ্যাত হলুদের গুণের কথা শোনাব। হলুদের রং সোনালি। মনমোহিনী একটা ঘ্রাণও আছে তার। হাজার বছর ধরে সারা পৃথিবীর মানুষ রান্নার কাজে হলুদ ব্যবহার করে আসছে।

প্রথমে হলুদের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কিছু তথ্য বলে রাখি। আমেরিকার কৃষি বিভাগের জাতীয় পুষ্টিগুণ তথ্যপঞ্জি মতে, ১ টেবিল চামচ হলুদগুঁড়ায় পাওয়া যায় ২৯ ক্যালরি, শূন্য দশমিক ৯১ গ্রাম প্রোটিন, শূন্য দশমিক ৩১ গ্রাম চর্বি, ৬ দশমিক ৩১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২ দশমিক ১ গ্রাম আঁশ ও শূন্য দশমিক ৩ গ্রাম গ্লুকোজ। এ ছাড়া পাওয়া যায় দৈনিক চাহিদার ২৬ শতাংশ ম্যাংগানিজ, ১৬ শতাংশ আয়রন, ৫ শতাংশ পটাশিয়াম, ৩ শতাংশ ভিটামিন সি এবং সামান্য পরিমাণ ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম, কপার ও জিংক। এত সব পুষ্টি উপাদানের উপকারিতা বিচারে হলুদকে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার অন্যতম উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
হলুদে পুষ্টিগুণ তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে বিভিন্ন রোগপ্রতিরোধকারী ক্ষমতা।
কাঁচা হলুদ রূপচর্চায় ব্যবহার করা যায়। ছবি: প্রথম আলোকাঁচা হলুদ রূপচর্চায় ব্যবহার করা যায়। ছবি:অপূর্ব ব্লকপোস্ট

ক্যানসার প্রতিরোধে হলুদ
হলুদে কারকিউমিনের উপস্থিতির কারণে হলুদ প্রোস্টেট ক্যানসার, প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার, মাল্টিপ্লাই মায়োলেমা জাতীয় ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক বলে ধারণা করা হয়। হলুদের কারকিউমিন ক্যানসার কোষগুলোর বৃদ্ধি প্রতিহত করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। এ ছাড়া রেডিয়েশনের কারণে সৃষ্ট টিউমারের বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ উপায়ে প্রতিহত করতে পারে হলুদ।

আর্থ্রাইটিস থেকে মুক্তিলাভ
অস্টিও আর্থ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের প্রকোপ কমাতে হলুদের ব্যথা নিবারক বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। হলুদের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণের কারণে ক্ষতিকর ফ্রি রেডিকেলগুলো ধ্বংস হয় বলে আমাদের দেহের কোষগুলো সুস্থ থাকে। যাঁরা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন, তাঁরা যদি নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় হলুদ খাওয়া শুরু করেন, একপর্যায়ে তাঁদের এই জয়েন্ট পেন অনেকটাই কমে যাবে।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
হলুদের লাইপোপলিস্যাকারাইড দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল এজেন্ট প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। এরূপ শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠান্ডা, সর্দি, কাশি হওয়ার প্রবণতাকে রোধ করে।

সুস্থ ও কর্মক্ষম যকৃতের জন্য চাই হলুদ
হলুদ মানবদেহে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এনজাইমের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এই এনজাইমগুলো শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে যকৃতে আসা বিষাক্ত পদার্থগুলোকে ভেঙে দেয় এবং রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত করে শরীর থেকে বের হতে সাহায্য করে। এভাবে হলুদ রক্তপ্রবাহকে সতেজ ও উন্নত করে, যা যকৃতের সুস্থতার জন্য সহায়ক।

খাদ্য পরিপাক ও অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়ক
নিয়মিত ক্ষয়রোধ ও প্রদাহ রোধ করে খাদ্যনালির সুস্থতা নিশ্চিত করে হলুদ। আইবিএসের (Irritable bowel syndrome) আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় হলুদের ভূমিকা অনন্য। গ্যাসের কারণে পেট ফুলে যাওয়াকে প্রতিহত করে হলুদ।
হলুদ পিত্তরসের নিঃসরণ বাড়িয়ে দিয়ে খাদ্যে অবস্থিত চর্বিকে ভাঙতে সহায়তা করে। যাঁরা ওজন কমাতে ইচ্ছুক, তাঁরা প্রতিবার খাবার সময় ১ চা-চামচ পরিমাণ হলুদগুঁড়া খাবারের সঙ্গে খেলে উপকার পেতে পারেন।

হলুদের অ্যান্টিসেপ্টিক গুণাবলি
প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক ও অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে হলুদ যেকোনো সংক্রমণকে প্রতিহত করে। শরীরের কোনো কাটা বা পোড়া ক্ষত স্থানে হলুদ লাগিয়ে দিলে দ্রুত ক্ষত পূরণ হয়ে যায়।

বার্ধক্যে আলঝেইমার ডিজিজ প্রতিরোধে হলুদ
ধারণা করা হয়, মস্তিষ্কের প্রদাহের কারণে বৃদ্ধ বয়সে অনেকের আলঝেইমার রোগ হয়। এ রোগে বোধশক্তি কমে যায়। হলুদের প্রদাহবিরোধী গুণের কারণে মস্তিষ্কে সৃষ্ট প্লাক ভেঙে গিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ উন্নত হয়। তাই এই রোগ দেরিতে দেখা দেয় বা অনেকাংশে প্রতিহত হয়।
সবকিছুই একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় গ্রহণ করতে হয়। না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। হলুদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। তাই মাত্রাতিরিক্ত হলুদ গ্রহণের কুফলও জেনে রাখুন।
১. হলুদ পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণকে বাড়িয়ে দেয়, ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে উপকার হলেও কারও ক্ষেত্রে বিপরীত প্রতিক্রিয়াও দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
২. বিশুদ্ধকরণ গুণের কারণে হলুদ রক্তকে তরল রেখে রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্তের প্রবাহকে সহজ করে। যাঁদের রক্তচাপ কম, তাঁদের আলাদা করে বেশি মাত্রায় হলুদ না খাওয়াই ভালো। যাঁরা নিয়মিতভাবে রক্ত তরলকারী ওষুধ সেবন করে আসছেন, তাঁদেরও আলাদা করে ওষুধ আকারে হলুদ খাওয়া ঠিক হবে না।
বিভিন্নভাবে হলুদ খাওয়া ও ব্যবহার করা যায়।
১. গুঁড়া হলুদ রান্নায় ব্যবহার করে,
২. ক্যাপসুল আকারে,
৩. কাঁচা হলুদ টুকরা করে কেটে আখের গুড় দিয়ে মেখে খাওয়া যায়,
৪. রূপচর্চায় বাটা হলুদ ব্যবহার করা যায়।
হলুদের সর্বোচ্চ উপকার পাওয়ার জন্য আপনি নিয়মিত ‘হলুদ চা’ পান করতে পারেন।
যেভাবে হলুদ চা তৈরি করবেন

উপকরণ
১ কাপ পানি, আধা চা-চামচ হলুদগুঁড়া, ১ চা-চামচ মধু (স্বাদের জন্য)।

প্রস্তুত প্রণালি
১ কাপ হালকা গরম পানিতে পরিমাণমতো হলুদগুঁড়া ও মধু ভালোমতো মিশিয়ে নিলেই হয়ে যাবে হলুদ চা। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই চা পান করার অভ্যাস করলে অনেক ভালো ফল পাওয়া যাবে।

গুঁড়া হলুদ বাজার থেকে না কিনে বাড়িতেই তৈরি করা সম্ভব। প্রথমে তাজা রসাল কিছু হলুদ কিনে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। তারপর হলুদ কন্দ চাক চাক করে কেটে ভালো ভাবে রোদে শুকিয়ে ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে নিলেই হলো। যদি মিহি গুঁড়া পেতে চান তবে পাতলা চালনি দিয়ে চেলে নিতে পারেন।

এত যার উপকার সেই হলুদকে সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করলে আপনি যে সুস্থ, সুন্দর নীরোগ জীবনের অধিকারী হবেন, এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যায়। ক্ষতি কী! দেখুন না চেষ্টা করে।
লেখক: পুষ্টি ও খাদ্য পরামর্শবিদ

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ধনিয়াপাতার বিশেষ স্বাস্থ্য গুণাগুণ

সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ 0
শীতের আগমনে বাজারে এখন ধনেপাতার ব্যাপক সমাগম শুরু হয়েছে। এন্টি–অক্সিডেন্ট, এসেনশিয়াল অয়েল, ভিটামিন, খনিজ সমৃদ্ধ সবজিটিতে আমাদের জন্য অনেক উপকারী উপাদান রয়েছে। চলুন ধনেপাতার এসব উপকারী গুনাগুন সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।


শীতের আবির্ভাবের সাথে সাথে বাজারে ধনেপাতার সমাগম শুরু করেছে। মৌসুমের প্রারম্ভে দাম কিছুটা বাড়তি হলেও ক্রেতাদের কাছে এর অনেক কদর রয়েছে। অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ সবজি ও সালাদে স্বাদ বাড়াতে এর জুড়ি নাই। এতে অন্তত ১১ প্রকারের এসেনশিয়াল অয়েল বা তেল),ছয় ধরনের অ্যাসিড ছাড়াও প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য উপকারী উপাদান রয়েছে। চলুন জেনে নিই ধনেপাতার এসব অজানা উপকারী গুনাগুন বিষয়ে বিস্তারিত। 
ধনেপাতার পুষ্টিগুণ  
খনিজের অন্যতম উৎস ধনেপাতায় বিভিন্ন উপকারী উপাদান যেমন- পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম আয়রন ও ম্যাংগানিজ ইত্যাদি রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম ধনেপাতায় রয়েছ ৮৬.৩ গ্রাম জলীয় অংশ। এছাড়া খনিজ পদার্থ ২.৩ গ্রাম,আশঁ ১.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৪ কিলোক্যালোরি, আমিষ ৩.৩ গ্রাম, চর্বি ০.৬ গ্রাম,  শকরা ৬.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮৪ মিলিগ্রাম, আয়রণ ১৮.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন  এ ৬৯১৮ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি ১০.০৫ মিলিগ্রাম  ও ভিটামিন সি ১৩৫ মিলিগ্রাম ।
ধনেপাতার বিভিন্ন উপকারী গুনাগুন
১। রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ
আয়রনের অন্যতম উৎস হচ্ছে ধনেপাতা। এতে উচ্চ মাত্রায় আয়রন উপাদান থাকায় শরীরে রক্তস্বল্পতা হতে বাধা দেয়। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা,অত্যন্ত ক্লান্তি অনুভব ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া আমাদের শরীরের হাড় মজবুত ও সুস্থ রাখতে আয়রন সমৃদ্ধ ধনেপাতার বিকল্প নেই।
২। দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা
ধনেপাতায় রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ যা আমাদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। ভিটামিন এ চোখের রেটিনার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত সহ রাতে্র অন্ধকারে ভালো দেখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান থাকায় বয়সের সাথে সাথে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে আসার সমস্যা আংশিকভাবে রোধ করতেও এর অবদান রয়েছে।
৩। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
নিয়মিত ধনেপাতা খেলে তা শরীরের এন্ডোক্রাইন গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে এবং এতে অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর ফলে আমাদের রক্তে শর্করার পর্যাপ্ত শোষণ নিশ্চিত হয়। এছাড়া ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা যদি নিয়মিত ধনেপাতা খান তাহলে তাদের শরীরে শর্করার পরিমাণ হ্রাস পেয়ে বিপাক সঞ্চালন সঠিক থাকে যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুবই সহায়ক।
৪। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
ধনেপাতায় প্রচুর ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি রয়েছে যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই কাজ করে। আমাদের শ্বাসনালী সহ চোখ, নাক, মুখ, গলা্য় ভাইরাসের ইনফেকশন হতে বাধা দেয় ধনেপাতায় থাকা ভিটামিন এ। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন সি আমাদের রক্তে সাদা রক্ত কোষের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয় যার ফলে শরীরে কোনো ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সমস্যা প্রতিরোধ স্বাভাবিকের চেয়ে আরও দ্রুত হয়। তাই চাইলেই আমরা সালাদে আধামুষ্টি পরিমাণ ধনেপাতা যোগ করতে পারি যা শুধু সালাদের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি একটু বেশি সুস্বাস্থ্যও নিশ্চিত করবে।  
৫। উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস
ধনেপাতায় উচ্চ মাত্রায় কোলিনার্জিক যৌগ এবং ক্যালসিয়াম অ্যান্টাগোনিস্টস থাকায় তা উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাছাড়া এই পাতায় শক্তিশালী তেজস্ক্রিয়তা রয়েছে, যা খুব স্বাভাবিক উপায়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনে।
৬। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হার্টের অসুখ যেমন স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসের মতো ক্রনিক রোগ সৃষ্টিতে অনেক দায়ী। ধনেপাতায় সোডিয়াম ও পটাশিয়াম থাকায় এটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সক্ষম। এছাড়া ধনেপাতায় বিভিন্ন অ্যাসিড, যেমন- লিনোল্যাট অ্যাসিড, ওলিঅ্যাট অ্যাসিড, পমিট্যাট অ্যাসিড ও স্টিয়ার্যাট এসিড রয়েছে যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো প্রাণনাশক সমস্যাগুলোর জন্য দায়ী খারাপ কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণ করে এসব উপাদান।
৭। হজমে সহায়তা
ধনেপাতার আরও একটি বড় উপকারিতা হচ্ছে এটি খেলে শরীরে অনেক বেশিমাত্রায় হজমে সাহায্যকারী এনজাইম উৎপন্ন হয় ফলে খাবার দ্রুত হজম হয়। শুধু তাই নয় বমিভাব এবং বদহজম দূর করতেও এর জুড়ি নেই। এছাড়া এর দারুণ সুগন্ধ খাবারের রুচিও বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখে।
৮। ক্যান্সার প্রতিরোধ
ধনেপাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান যা শরীরের  সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য উপকার সাধন করে। এতে থাকা  অ্যান্টি-অক্সিডেন্টমূহের মধ্যে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন ই, ক্যাফিক অ্যাসিড, ফেরুলিক, কুয়ারসেটিন ও ক্যাম্পারফোল্ড উপাদান যেগুলো ক্যান্সার নির্মূলের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।

প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক উপাদান থাকায় স্বাভাবিক পরিমাণে ধনেপাতা খেলে তা শরীরের জন্য যেমন উপকার বয়ে আনে তেমন অতিরিক্ত ধনেপাতা খেলে তা যকৃতের সমস্যা সহ  ডায়রিয়া কিংবা অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে আবার সূর্যরশ্মির সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। তাই অবশ্যই পরিমাণমতো ধনেপাতা খাওয়া উচিত।


ভাইরাস জনিত জ্বর, ডেঙ্গুর লক্ষণ ও প্রতিকার

সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ 0

বর্তমানে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেছে যা সবারই ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত জুলাই হতে অক্টোবর ডেঙ্গুর মৌসুম হিসাবে ধরা হয়। এজন্য রোগটি সন্মন্ধে সঠিক ধারণা ও সচেতনতার দরকার। আসুন রোগটির কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নিই।

ইদানিং রাজধানীতে অতিমাত্রায় বেড়ে গেছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যা সবারই ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত জুলাই হতে অক্টোবর এই সময়টি ডেঙ্গুর মৌসুম হিসাবে গণ্য করা হয়। তাই এসময়টিতে দরকার বাড়তি সচেতনতা। চলুন ডেঙ্গুর কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার সন্মন্ধে বিস্তারিত জেনে নিই। 
ডেঙ্গু কিভাবে ছড়ায়?
ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস ইজিপ্টাই জাতীয় মশা কামড় দিলে প্রধানত ডেঙ্গুজ্বর হয়ে থাকে। কোন  ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত লোককে এ জাতীয় মশায় কামড়ায় এবং পরবর্তীতে ঐ একই মশা যদি কোন সুস্থ মানুষকে কামড়ায় তাহলে উক্ত সুস্থ ব্যক্তি ডেঙ্গু জ্বরে ভোগার সম্ভাবনা অনেক বেশী। সাধারণত জীবাণু বহনকারী এডিস মশা কোনো মানুষকে কামড়ানোর চার হতে ছয়দিনের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এভাবে ক্রমাগত মশার মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে রোগটি ছড়াতে থাকে।
কাদের ডেঙ্গু বেশি হয়? 
গ্রামে বসবাসকারী লোকজনের চেয়ে  শহরের অভিজাত এলাকায় যেখানে বড় বড় দালান কোঠা রয়েছে সেখানে এর প্রাদুর্ভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। এর প্রধান কারণ হলো শরের দালান কোঠার ছাদে ফুলের টবে কিংবা ড্রেনে যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে যেখানে অনায়াসে এসব মশা দিম পারে এবং বংশ বিস্তার করে থাকে। ডেঙ্গু বড়দের তুলনায় ছোট শিশুদের বেশী হয়। যাদের আগেও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস আছে তাদের পরবর্তী সময়ে রোগটি হলে তাতে রোগীর অবস্থা আরও মারাত্মক হওয়ার ঝুঁকি থাকে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ সমূহঃ
ডেঙ্গু জ্বর প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে। (১) ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বর এবং (২) হেমোরেজিক ফিভার। দুই ধরনের জ্বরের লক্ষণ ও তীব্রতা আলাদা ধরনের। নিম্নে প্রকারভেদে রোগটির লক্ষণ ও তীব্রতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১। ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরঃ
ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বর হলে শরীরে সাধারণত তীব্র জ্বরের সাথে প্রচণ্ড ব্যথা হয়ে থাকে। কোন কোন সময় জ্বরের মাত্রা ১০৫ ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়। এই ব্যথা বিশেষ করে শরীরের বিভিন্ন জোড়ায় জোড়ায় যেমন কোমর, পিঠের অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র হয়ে থাকে। এছাড়া মাথায় ও চোখের পেছনে তিব্র ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় ব্যথার মাত্রা এত তীব্র আকার ধারণ করে যে মনে হয় যেন হাঁড় ভেঙে যাচ্ছে। এজন্য এই জ্বরকে ‘ব্রেক বোন ফিভার’ও বলা হয়। এছাড়া জ্বরের  চার বা পাঁচদিনের সময় সারা শরীরে লালচে দানা যুক্ত অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি রোগীর  বমি বমি ভাব এমনকি বমি হতে পারে। এতে রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করতে পারে। এছাড়া রোগীর খাওয়া দাওয়ার রুচি অনেক কমে যায়। কোনো কোনো রোগীর বেলায় জ্বর দুই বা তিনদিন পর আবার আসে বলে একে ‘বাই ফেজিক ফিভার’ ও বলা হয়।
২। হেমোরেজিক ডেঙ্গু ফিভারঃ
হেমোরেজিক ডেঙ্গু ফিভার হলে অবস্থাটা আরও জটিল আকার ধারণ করে। এইরুপ জ্বরে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে যেমন  চামড়ার নিচ, চোখের মধ্যে এবং চোখের বাইরে, নাক, মুখ, দাঁতের মাড়ি কিংবা কফের সাথে রক্ত বমি হতে পারে। এছাড়া কালো পায়খানা সহ পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বের হতে পারে।, মেয়েদের ক্ষেত্রে  অসময়ে ঋতুস্রাব হতে পারে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ অনেকদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই রোগ হলে অনেকের বুকে পানি, পেটে পানি জমা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস হতে পারে। আবার কিডনি আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউরের মত ঘটনা ঘটতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াভহ একটি রূপ হচ্ছে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম যাতে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে। অন্যান্য জতিলতার মধ্যে  নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হওয়া,  হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, রোগী হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া সহ মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে  পারে।
ডাক্তারের কাছে কখন যাওয়া  উচিত?
ডেঙ্গু জ্বর নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তাই বিভিন্ন উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা ভালো। যেসব গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত সেগুলো হলো- 
  • শরীরের কোনো জায়গা থেকে রক্তপাত হতে থাকলে।
  • রক্ত পরীক্ষায় প্লাটিলেটের মাত্রা কম পাওয়া গেলে
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হলে।
  • পেটে পানি এসে ফুলে গেলে।
  • প্রস্রাবের মাত্রা কমে গেলে।
  • শরীরে জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে।
  • দেহে অতিরিক্ত মাত্রায় ক্লান্তিভাব বা দুর্বলতা দেখা দিলে।
  • পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হলে কিংবা বমি হলে।
ডেঙ্গুর চিকিৎসা কিভাবে করবেন?  
কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা না করালেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে রোগী সাধারণত ৫-১০ দিনের মধ্যে এমনিতেই  ভালো হয়ে যায়। তবে এসময় যাতে ডেঙ্গুজনিত কোনো মারাত্মক জটিলতা না হয় এজন্য রোগীকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেভাবে চলতে হবে। এজন্য ডেঙ্গুর চিকিৎসায় নিম্নলিখিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
  • সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রোগীকে বিশ্রামে থাকতে হবে। 
  • ডেঙ্গু হলে প্রচুর পরিমাণে পানি, শরবত, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে।
  • রোগী যদি মুখ দিয়ে খেতে না পারে তাহলে তার শিরাপথে স্যালাইন দিতে হবে।
  • রোগীর জ্বর বেশী হয়ে গেলে কমানোর জন্য শুধুম প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধই দেওয়া যাবে। তবে কোন প্রকারেই এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথানাশক খাওয়ানো যাবে না। এসব ওষুধ খেলে  রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
  • এছাড়া জ্বর কমাতে ভেজা কাপড় দিয়ে গা মোছানো যেতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়:
ডেঙ্গু জ্বরের বাহক যেহেতু মশা তাই এই বাহকের প্রতিরোধের মাধ্যমেই এই রোগের প্রতিরোধ সম্ভব। এজন্য ডেঙ্গুবাহী মশার বংশবিস্তার রোধের পাশাপাশি মশা যেন আপনাকে কামড়াতে না পারে সেই  ব্যবস্থা করতে হবে। এডিস মশা যেহেতু অভিজাত এলাকায়, বড় বড়, সুন্দর সুন্দর দালান কোঠায় বসবাস করে ও সেখানে থাকা স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে তাই এসব আবাসস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এ রোগের বিস্তার রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ। এজন্য নিম্নের বিষয়গুলির প্রতি নজর দেওয়া উচিত।
  • বাড়ির আশপাশের ঝোঁপঝাড়, জলাশয় কিংবা জঙ্গল থাকলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফেলতে হবে।
  • এডিস মশা যেহেতু স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে তাই বাসার ফুলদানি, কোন অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোসা, কিংবা পরিত্যক্ত টায়ার থাকলে সেগুলি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।
  • লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ঘরের বাথরুম বা অন্য কোথাও পাঁচদিনের বেশি পানি জমানো অবস্থায় না থাকে যেমন অ্যাকুয়ারিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ারকন্ডিশনারের নিচের অংশ ইত্যাদি।
  • এডিস  জাতীয় মশা সাধারণত সকালে ও সন্ধ্যায় কামড়িয়ে থাকে।  এজন্য  দিনের বেলা শরীর ভালোভাবে কাপড় ঢেকে রাখতে, প্রয়োজন হলে মসকুইটো রিপেলেন্ট লাগানো যেতে পারে।
  • মশার আক্রমণ থেকে বাঁচতে ঘরের দরজা ও জানালায় মশারীর নেট লাগাতে হবে।  
  • দিনের বেলায় ঘুমালে অবশ্যই মশারি টাঙ্গিয়ে বা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে।
  • বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়ার সময় হাফ প্যান্ট না পরিয়ে তাদের ফুল প্যান্ট পরিয়ে তারপর স্কুলে পাঠানো উচিত।
  • মশা নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের  সাথে মশার কামড় থেকে বাচতে  দিনে কিংবা রাতে মশারি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
  • সর্বপরি কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে উক্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যেন কোনো মশা  তাঁকে কামড়াতে না পারে।
আমাদের প্রকৃতি থেকে ডেঙ্গু জ্বরের মশা একেবারে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই মশা প্রজননের এবং বংশবৃদ্ধির পরিবেশ যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে সবারই খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত মশারী ব্যাবহার করা একদম ভোলা যাবেনা।  একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এই যন্ত্রণাময় রোগের হাত থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

বেল খাওয়ার প্রাকৃতিক ১০টি পুষ্টি গুণাগুণ

সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ 0
 প্রকৃতিতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা যাতে সবার প্রাণ ওষ্ঠাগত প্রায়। এ সময়ে প্রাণ জুড়াতে বেলের সরবতের কোন জুড়ি নেই। এছাড়া বেলের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য গুণাগুণও। আসুন এই গরমে বেল খাওয়ার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারীতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

প্রকৃতিতে বর্তমানে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা যাতে সবার প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত । গরমে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখা সহ বেলের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য গুণাগুণ। প্রচণ্ড গরমের দাবদাহে একটু বেলের সরবত খেলে যেন প্রান জুড়িয়ে যায়। ক্লান্তি দূর করা কিংবা বিভিন্ন রোগের উপসম ঘটাতে বেলের জুড়ি নেই।
সসসকচি বেল ও পাকা বেল উভয়ই শরীরের জন্য বেশ উপকারী। আসুন জেনে নিই এই গরমে বেল খাওয়ার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারীতা সম্পর্কে।
বেলের পুষ্টি গুনাগুণ   
বেল একটি পুষ্টিকর ও উপকারী ফল। বেলের পুষ্টিগুণ অন্যান্য ফলের চেয়ে অত্যন্ত বেশি। কাঁচা কিংবা পাকা উভয় প্রকারেই ফলটি খাওয়া যায়। বেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাসিয়ামের মত মূল্যবান পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম বেলের শাঁসে পানির পরিমাণ ৫৪.৯৬-৬১.৫ গ্রাম, প্রোটিন ১.৮-২.৬২ গ্রাম, স্নেহ পদার্থ ০.২-০.৩৯ গ্রাম, শর্করা ২৮.১১- ৩১.৮ গ্রাম, ক্যারোটিন ৫৫ মিলি গ্রাম, থায়ামিন ০.১৩ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লেবীন ১.১৯ মিলিগ্রাম, এসকরবিক এসিড ৮-৬০ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম ও টারটারিক এসিড ২.১১ মিলিগ্রাম। 
বেলের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারীতা
প্রচণ্ড গরমের দাবদাহে একটু বেলের সরবতে যেন প্রান জুড়িয়ে যায়। গরমে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে বেলের সরবতের জুড়ি নেই। কিন্তু শুধু পেট ঠাণ্ডা নয়, বেলের রয়েছে আরও নানা রকম স্বাস্থ্য গুণাগুণ। নিম্নে বেলের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা বিষয়ে আলোচনা করা হলো।
 হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে  
গরমকালে প্রায়ই বদহজম, গ্যাস, অম্বল, পেট ব্যাথা এসব সমস্যা লেগেই থাকে। এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে বেলের সরবত খুবই কাজের। বেল খেলে তা খাবার হজম হতে সাহায্য করে।  এছাড়া ফলটি পেট ঠাণ্ডা রাখতেও সাহায্য করে। ফলটি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে বলে গ্যাস, অম্বল, বমির মত সমস্যা সহজে হয় না। তাই ফরমের সময় রোজ বেলের সরবত খেলে এসব সমস্যা থেকে সহজেই বেঁচে থাকা যায়। 
 শরীরকে সতেজ রাখতে
শরীরের এনার্জি বা শক্তি বৃদ্ধিতে বেলের অনেক ভুমিকা রয়েছে। প্রতি  ১০০ গ্রাম বেলের মধ্যে ১৪০ গ্রাম ক্যালোরি পাওয়া যায়। ক্যালোরি ছাড়াও এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা দেহের এনার্জি বাড়াতে ভুমিকা রাখে। ফলটি পেশিকে মজবুত করা সহ দেহকে সচল রাখতে সাহায্য করে। তাই গরমের সময় শরীরের ক্লান্তিভাব দূর  করে শরীরকে সতেজ রাখতে বেলের জুড়ি নেই। গরমে শরীর যখন খুব ক্লান্ত লাগে তখন একগ্লাস বেলের সরবত খেয়ে নিলে মুহূর্তেই দেহে এনার্জি পাওয়া যায়।
 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে
বেল রক্তকে পরিষ্কার রাখা ছাড়াও রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে ভুমিকা রাখে। ফলটি খেলে তা শরীর থেকে টক্সিন দূর করে শরীরকে পরিষ্কার রাখতে ভুমিকা রাখে। বেলে রয়েছে ভিটামিন সি যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও গ্রীষ্মকালে অনেক সময় অনেক ছোঁয়াচে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এসব  ছোঁয়াচে রোগ মোকাবেলায় বেলের ভুমিকা অনস্বীকার্য। 
 কিডনি সুস্থ রাখতে
কিডনি ভালো রাখতে বেলের গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রয়েছে। বেলে রয়েছে আছে এমন কিছু উপকারী উপাদান যা কিডনিকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে। ফলে দেহ বিভিন্ন প্রকার অসুখ থেকে কিডনিকে মুক্ত থাকে। এজন্য কিডনির সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারগণ রোগীকে বেল খেতে বলে থাকেন।
 কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে   
যারা কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য পাকা বেলের সরবত খুব উপকারি ভুমিকা রাখতে পারে। বেল যেহেতু খাবার হজমে সাহায্য করে তাই দেহে কোষ্ঠকাঠিন্যর মত সমস্যা বাসা বাঁধতে পারেনা। কেউ যদি নিয়মিত বেলের সরবত খান তাহলে দু তিন মাসের মধ্যেই তার কোষ্ঠকাঠিন্যর এই সমস্যা আর থাকবেনা। আর কোষ্ঠকাঠিন্যর জন্য যে পেট ব্যাথা হয় তাও রোধ করে এই বেল। এছাড়াও কাঁচা বেল খেলে তা ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগ সারাতেও অনেক কাজ করে।
 গ্যাসট্রিক ও আলসার প্রতিরোধে
বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। এছাড়া বেল হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। এর ফলে পেটে গ্যাসের সমস্যা তেমন হয় না। তাই নিয়মিত বেল খেলে গ্যাসট্রিক, আলসার সহ পেটে গ্যাসজনিত ব্যাথা  জাতীয় সমস্যা থেকে সহজেই মুক্ত থাকা যায়।
 চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে
বেল শরীরের যেমন উপকার বয়ে আনে তেমনই ফলটি চোখের জন্যও খুব উপকারি। এতে প্রচুর ভিটামিন এ থাকে যা চোখের জন্য একটি উপকারি উপাদান এবং এটি চোখে পুষ্টি যোগায়। ফলটি চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে ফলটির ভুমিকা অপরিসীম। এছাড়া চোখের বিভিন্ন রোগ যেমন গ্লুকমা, জেরসিস  রোগ হবার হাত থেকে চোখকে রক্ষা করতেও এর বিশেষ ভুমিকা রয়েছে। বেলপাতার রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে চোখের ছানি কমে যায়। যারা নিয়মিত বেল খায়, তাদের চোখের বিভিন্ন অসুখ হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
 ঠান্ডা জাতীয় সমস্যা প্রতিরোধে
বেলে রয়েছে ঠান্ডা জাতীয় সমস্যা প্রতিরোধী উপাদান। তাই কারও সর্দি জ্বর হলে এক চামচ বেলপাতার রস খাওয়ালে দ্রুত সর্দি ও জ্বরভাব কেটে যায়। এছাড়া বেলপাতার রস ঠাণ্ডা ও ক্রনিক করার জন্যও অনেক উপকারী।
 ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায়
বেলে প্রচুর পরিমানে খাদ্য আঁশ থাকে যা ত্বকের জন্যও খুব উপকারি।  নিয়মিত বেল খেলে তা ত্বককে মসৃণ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া এটি ব্রনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।  
১০ ক্যান্সার প্রতিরোধে
বেলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর গুণাগুণ যা ক্যান্সার প্রতিরোধক। এর রয়েছে স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সার রোধে বিশেষ ভুমিকা। বেল থেকে পাওয়া বেটাক্যারোটিন মানবদেহের টিউমার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে।  তাই বিশেষ করে মহিলারা নিয়মিত বেল বা বেলের শরবত খাওয়ার মাধ্যমে ব্রেস্ট ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে পারেন।   

বেলের পুষ্টিগুণ অন্যান্য ফলের চেয়ে অনেক বেশি। প্রচন্ড গরমে শরীর ও মন উভয়ই ঠান্ডা রাখতে পান করতে পারেন এক গ্লাস বেলের শরবত। এই বেলের শরবত আপনার শরীরকে শুধু ঠাণ্ডাই করবেনা দিবে নানাবিধ শারীরিক উপকারিতা। এজন্য এই গরমে প্রতিদিনের শারীরিক পরিশ্রেমের ধকল দূর সহ দেহকে প্রাণবন্ত রাখতে একগ্লাস বেলের শরবত পান করুন।

Notice