অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ
২৮ আগস্ট ২০১৯
২৮ আগস্ট ২০১৯
আমাদের
শরীরের শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগই পানি। শরীরে উৎপন্ন বিভিন্ন বর্জ্য
নিষ্কাশনে ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পানি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ কারণে দিনে
অন্তত আট–নয় গ্লাস কিংবা দুই–তিন লিটার পানি পান করা উচিত।পান করার জন্য পানি হওয়া চাই বিশুদ্ধ বা নিরাপদ। আর্সেনিকমুক্ত নলকূপের পানি নিরাপদ। গভীর নলকূপের পানি অগভীর নলকূপের পানির চেয়ে বেশি নিরাপদ। বৃষ্টির পানিও নিরাপদ। তবে পুকুর, নদী-নালা, খাল-বিল ইত্যাদি জলাশয়ের পানি পান করা নিরাপদ নয়। বাড়িতে স্যানিটারি ল্যাট্রিন না থাকলে মল এ ধরনের জলাশয়ের সংস্পর্শে আসতে পারে। মলে থাকা অসংখ্য জীবাণু পানিকে দূষিত করে তোলে। কলকারখানার বর্জ্যও পানি দূষিত করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাপ্লাইয়ের পানিও সরাসরি পান করা নিরাপদ নয়। জীবাণুযুক্ত বা দূষিত পানি পান করলে নানা ধরনের অসুখ হতে পারে। এগুলোকে বলে পানিবাহিত রোগ। পানিবাহিত রোগের মধ্যে আছে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, জিয়ার্ডিয়া, টাইফয়েড, পলিওমায়েলাইটিস, লিভারের অসুখ বা জন্ডিস (হেপাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-ই), কৃমি ইত্যাদি।
পানিবাহিত রোগ যেন না হয়, সে জন্য নিরাপদ পানি পান করতে হবে।
অনিরাপদ পানি সরাসরি পান না করে তা ফুটিয়ে, ফিল্টার করে, হ্যালোজেন
ট্যাবলেট বা ক্লোটেক সলিউশন ব্যবহার করে নিরাপদ করে নিতে হবে। তবে পানি
ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতিই হলো সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি।
ফোটানোর জন্য সংগ্রহ করা পানিতে দৃশ্যমান ময়লা থাকলে তা আগে
ছেঁকে নিতে হবে। তারপর তা চুলায় ফোটাতে হবে। পানি ফুটতে শুরু করার পর আরও
১০ থেকে ২০ মিনিট তা ফোটাতে হবে। এর ফলে পানিতে থাকা রোগের সব জীবাণু মরে
যায়। ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করা পানি যেন অন্য পাত্র বা হাতের সংস্পর্শে দূষিত না
হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয়, যে পাত্রে পানি ফোটাবেন,
ঠান্ডা করার জন্য সে পাত্রেই পানি রেখে দিন। পাত্রের মুখ পরিষ্কার ঢাকনা
দিয়ে ঢেকে রাখুন। পাত্রের ভেতর মগ বা গ্লাস বা অন্য কোনো কিছু দিয়ে পানি
না তুলে ঢেলে নিন।
হ্যালোজেন ট্যাবলেট এবং ক্লোটেক সলিউশন ব্যবহার করেও পানি
বিশুদ্ধ করা যায়। ১৫ মিলিগ্রামের দুটি হ্যালোজেন ট্যাবলেট অথবা ৩২ ফোঁটা
ক্লোটেক সলিউশন ১০ লিটার (এক কলসি) পানিতে মিশিয়ে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা
পরে পান করুন। পানি বিশুদ্ধকরণের ফিল্টার ব্যবহার করলে প্রতি সপ্তাহেই
ফিল্টারের ক্যান্ডেল ধুয়ে–মুছে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। খাবারের থালা,
গ্লাস, ফলমূল, লেবু, শসা—এসব ধোয়ার জন্যও নিরাপদ পানি ব্যবহার করুন। বাইরে
খেতে হলে নিরাপদ পানির ব্যাপারে নিশ্চিত হোন।
অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ
বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ, কমিউনিটি বেজড্ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন